অগ্রিম আয়কর ৪র্থ কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ ১৫ জুন ২০২৬
অগ্রিম আয়কর২ জুন, ২০২৬

অগ্রিম আয়কর ৪র্থ কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ ১৫ জুন ২০২৬

আজ ২ জুন ২০২৬। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আপনি যদি অগ্রিম আয়কর (Advance Tax) প্রদানকারী একজন করদাতা হন, তাহলে আগামী ১৫ জুন ২০২৬ তারিখটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০২৫-২০২৬ আয়বর্ষের অগ্রিম আয়করের ৪র্থ ও সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ।

সময়মতো পরিশোধ না করলে আপনাকে ‘খেলাপি করদাতা’ (Assessee-in-default) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বার্ষিক ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত সুদ গুনতে হতে পারে।

অগ্রিম আয়কর (Advance Tax) কী এবং কেন দিতে হয়?

অগ্রিম কর হলো চলতি বছরের আয়ের ওপর বছর শেষ হওয়ার আগেই কিস্তিতে কিস্তিতে সরকারকে প্রদত্ত আয়কর। এটি মূলত সরকারের রাজস্ব প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য আরোপ করা হয় এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে এটি বাধ্যতামূলক।

কাদের অগ্রিম কর দিতে হবে?

আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, সর্বশেষ আয়বর্ষে করদাতার মোট আয় যদি ৬ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে চলতি অর্থবছরে অগ্রিম কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

যেসব আয়ের ওপর অগ্রিম কর প্রযোজ্য নয়:

আয়ের ধরনশর্ত
কৃষি খাতের আয়৮ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে
মূলধনি আয় (Capital Gains)সর্বদা প্রযোজ্য নয়
এককালীন / অনিয়মিত আয়সর্বদা প্রযোজ্য নয়

নতুন করদাতাদের জন্য বিশেষ বিধান:

যদি আপনি প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করতে যাচ্ছেন এবং চলতি বছরে আপনার আয় ৬ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আপনাকেও ১৫ জুনের মধ্যে উপকর কমিশনারের নিকট আয়ের একটি প্রাক্কলন (Estimate) জমা দিয়ে অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে।

অগ্রিম কর পরিশোধের কিস্তির সময়সূচিঃ

আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অগ্রিম কর বছরে ৪টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় (প্রতিটি কিস্তি মোট করের ২৫%) ।

কিস্তিপরিশোধের শেষ তারিখপরিমাণ
১ম কিস্তি১৫ সেপ্টেম্বরমোট করের ২৫%
২য় কিস্তি১৫ ডিসেম্বরমোট করের ২৫%
৩য় কিস্তি১৫ মার্চমোট করের ২৫%
৪র্থ কিস্তি১৫ জুন ← মোট করের ২৫%

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: নির্ধারিত তারিখ সরকারি ছুটির দিন হলে পরবর্তী কর্মদিবসে পরিশোধ করা যাবে।

সময়মতো অগ্রিম কর না দিলে কী হবে?

১. সরল সুদ আরোপ (Simple Interest): বছর শেষে কর নির্ধারণের পর যদি প্রমাণিত হয় যে আপনার পরিশোধিত অগ্রিম কর ও উৎসে কর্তিত করের সমষ্টি প্রকৃত নিরূপিত করের ৭৫%-এর কম, তাহলে ঘাটতি টাকার ওপর বার্ষিক ১০% হারে সরল সুদ গুনতে হবে।

২. সুদের হার ৫০% বৃদ্ধি (রিটার্ন না দিলে): নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আয়কর রিটার্নও দাখিল না করলে উপরোক্ত সুদের হার আরও ৫০% বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ তখন সুদের হার দাঁড়াবে বার্ষিক ১৫%

৩. "খেলাপি করদাতা" হিসেবে চিহ্নিত হওয়া: নির্ধারিত সময়ে অগ্রিম কর না দিলে করদাতাকে আইনত Assessee-in-default বা খেলাপি করদাতা হিসেবে গণ্য করা হবে।


কর-পরিকল্পনা একটি ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়া। এটি শুধু বছর শেষের কাজ নয় — সারা বছর সঠিক হিসাব রাখা এবং সময়মতো কর পরিশোধ করা একজন দায়িত্বশীল করদাতার পরিচয়। সুতরাং,

১৫ জুন ২০২৬ আসার আগেই:

  1. আপনার মোট আনুমানিক আয়ের হিসাব করুন।
  2. পূর্ববর্তী কিস্তির রেকর্ড মিলিয়ে নিন।
  3. ৪র্থ কিস্তির বাকি অংক পরিশোধ করুন।
  4. পরিশোধের প্রমাণ (চালান/ব্যাংক ডকুমেন্ট) সংরক্ষণ করুন।

হিসাবে জটিলতা থাকলে অথবা নতুন করদাতা হলে একজন NBR-নিবন্ধিত অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন


সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ):

প্রশ্নঃ আয় ঠিক ৬ লক্ষ টাকা হলে কি অগ্রিম কর দিতে হবে?

উত্তরঃ না, আয় ৬ লক্ষ টাকার বেশি হলেই কেবল অগ্রিম কর প্রযোজ্য।

প্রশ্ন: চাকরিজীবীদের কি আলাদা অগ্রিম কর দিতে হয়?

উত্তর: চাকরিজীবীদের বেতন থেকে নিয়োগকর্তা প্রতি মাসে উৎসে কর (TDS) কেটে রাখেন। আপনার মোট আয়ের ওপর প্রদেয় কর যদি উৎসে কর্তিত করের (TDS) সমান হয়, তবে আলাদা অগ্রিম কর দিতে হবে না। তবে আপনার যদি ব্যাংক সুদ, বাড়ি ভাড়া বা অন্য কোনো আয় থাকে এবং উৎসে কর্তিত কর বাদেও প্রদেয় কর অবশিষ্ট থাকে, তা আপনাকে অগ্রিম কর হিসেবে জমা দিতে হবে।

প্রশ্ন: অগ্রিম কর কোথায় জমা দিতে হয়?

উত্তর: বর্তমানে সকল প্রকার কর এ-চালান (A-Challan) বা ই-পেমেন্ট এর মাধ্যমে জমা দিতে হয়। আপনি অনলাইনে NBR-এর এ-চালান পোর্টালের মাধ্যমে (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ব্যবহার করে) ঘরে বসেই অগ্রিম আয়কর জমা দিতে পারেন। এছাড়াও অনলাইনে এ-চালান (A-Challan) ফর্ম পূরণ ও প্রিন্ট করে যেকোনো অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সরাসরিও জমা দেওয়া যায়।

প্রশ্ন: প্রাক্কলিত আয়ের চেয়ে বাস্তব আয় কম হলে কী হবে?

উত্তর: বছর শেষে রিটার্নে প্রকৃত কর নির্ধারণের পর অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মাহমুদুল হাসান বিজয়

আয়কর আইনজীবী

Mahmudul Hasan Bijoy — NBR Registered Income Tax Lawyer

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবী হিসেবে আমার কার্যক্ষেত্র কেবল রিটার্ন দাখিলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আয়কর অডিট মামলা নিষ্পত্তি, আয়ের উৎসের আইনি ব্যাখ্যা, সঠিক নথিপত্র প্রস্তুতকরণ এবং ট্রাইব্যুনাল বা আপিল শুনানিতে ক্লায়েন্টদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

সম্পর্কিত বিষয়

কর সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

জটিল কর আইন এবং অডিট ঝামেলা নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

চেম্বারের ঠিকানা

মাহমুদুল হাসান বিজয়

চেম্বার

১৪ কাকরাইল, রমনা, ঢাকা।

গুগল ম্যাপে দেখুন

সাক্ষাতের সময়

রবিবার - বৃহস্পতিবার:

সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:০০

শুক্রবার ও শনিবার: বন্ধ

সরাসরি যোগাযোগ

01951252375
"চেম্বারে সাক্ষাতের জন্য অনুগ্রহ করে ফোনে সময় নির্ধারণ করে নিন। পরামর্শের জন্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সাথে আনা আবশ্যক।"