NBR তালিকাভুক্ত আয়কর আইনজীবী

আয়কর রিটার্ন জমা করুন ঝামেলামুক্তভাবে।

আমি ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল, ই-টিন নিবন্ধন, আয়কর অডিট মামলা নিষ্পত্তি এবং আপীল-ট্রাইব্যুনাল শুনানিতে সহায়তা করি।
আইনি লেখাগুলো পড়ুন
Mahmudul Hasan Bijoy — NBR Registered Income Tax Lawyer, Dhaka Bangladesh

পরিচিতি

মাহমুদুল হাসান বিজয়

আয়কর আইনজীবী

"আয়কর রিটার্ন দাখিল কেবল একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়া নয়, এটি আইনের কঠোর পরিপালন। আমার আইনি প্র্যাকটিসের মূল ভিত্তি হলো কর আইনের প্রতিটি ধারার সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা। আমি মক্কেলদের আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদান এবং অডিট বা আইনি জটিলতা নিরসনে পেশাগত মতামত প্রদানে বিশ্বাসী।"
আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবী হিসেবে আয়কর ও কোম্পানি আইন নিয়ে প্র্যাকটিস করছি।

আমার কার্যক্ষেত্র কেবল রিটার্ন দাখিলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আয়কর অডিট মামলা নিষ্পত্তি, আয়ের উৎসের আইনি ব্যাখ্যা, সঠিক নথিপত্র প্রস্তুতকরণ এবং ট্রাইব্যুনাল বা আপিল শুনানিতে ক্লায়েন্টদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করাই আমার পেশাগত দায়িত্ব।

কার্যক্ষেত্র

আইনি সেবা

আয়কর

ব্যক্তি ও কোম্পানি ক্লায়েন্টদের রিটার্ন প্রস্তুত ও অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত আইনি সেবা।

  • রিটার্ন দাখিল
  • ট্যাক্স প্ল্যানিং
  • অ্যাসেসমেন্ট

আয়কর অডিট নিষ্পত্তি

অডিটের জন্য নির্বাচিত ফাইলের অডিট কার্যক্রম মোকাবিলা।

  • অডিট মোকাবিলা ও নিষ্পত্তি
  • ADR ও বিরোধ নিষ্পত্তি
  • প্রমাণাদি দাখিল

কর আপিল নিষ্পত্তি

কর কমিশনার (আপিল) এবং ট্রাইব্যুনাল বিভাগে মামলা পরিচালনা, রেফারেন্স এবং শুনানি।

  • আপিল মামলা
  • ট্রাইব্যুনাল শুনানি
  • হাইকোর্ট রেফারেন্স

লিগ্যাল অপিনিয়ন

আয়কর আইন সংক্রান্ত নোটিশের সুনির্দিষ্ট আইনি মতামত প্রদান।

  • আইনি ব্যাখ্যা
  • বাজেট বিশ্লেষণ
  • নোটিশের জবাব

কোম্পানি ট্যাক্স

কর্পোরেট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, উৎসে করের (TDS) রিটার্ন দাখিল, ট্রেড লাইসেন্স এবং আইনি ফাইল প্রস্তুতকরণ।

  • উৎসে করের রিটার্ন
  • কমপ্লায়েন্স
  • আইনি ফাইল

সনদ ও নিবন্ধন সেবা

করদাতাদের জন্য TIN এবং উইথহোল্ডার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (WIN) গ্রহণ ও সংশোধন।

  • টিআইএন নিবন্ধন
  • WIN গ্রহণ
  • কমপ্লায়েন্স

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

রিটার্ন চেকলিস্ট

রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন? আইনি জটিলতা এড়াতে নিশ্চিত করুন আপনার কাছে নিচের নথিপত্রগুলো প্রস্তুত আছে।

চেকলিস্ট ডাউনলোড (PDF)

বেতন বিবরণী

নিয়োগদাতার নিকট থেকে প্রাপ্ত মূল বেতন ও ভাতার সনদ।

ব্যাংক বিবরণী

১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সকল ব্যাংক হিসাবের বিবরণী।

কর জমার চালান

পূর্ববর্তী বছরের কর পরিশোধের ট্রেজারি চালান কপি।

বিনিয়োগ প্রমাণপত্র

ডিপিএস, জীবন বীমা বা সঞ্চয়পত্রের সনদ (কর রেয়াতের জন্য)।

সম্পদের তালিকা

জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ির দলিলের ফটোকপি।

এনআইডি ও টিআইএন

জাতীয় পরিচয়পত্র এবং টিআইএন সার্টিফিকেটের কপি।

দ্রষ্টব্য: ব্যক্তির আয়ের উৎসের ভিন্নতার কারণে অতিরিক্ত নথিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

লিংকসমূহ

গুরুত্বপূর্ণ লিংক

আয়কর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের লিংকসমূহঃ

আইনি ব্লগ

জরুরি আইনি তথ্য

সব ব্লগ দেখুন
বাজেট ২০২৬-২৭: আয়কর ও কর্পোরেট ট্যাক্স কাঠামোর সম্পূর্ণ গাইড | Bangladesh Income Tax 2026-27

বাজেট ২০২৬-২৭: আয়কর ও কর্পোরেট ট্যাক্স কাঠামোর সম্পূর্ণ গাইড | Bangladesh Income Tax 2026-27

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের জন্য একটি পূর্বাভাসযোগ্য (predictable) কাঠামো তৈরি করা।এবারের জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ আয়কর (Income Tax Bangladesh 2026-27) ব্যবস্থায় এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। করদাতারা যেন আগে থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারেন, সেজন্য প্রথমবারের মতো আগামী ৫ বছরের Predictable Tax Structure ঘোষণা করা হয়েছে। আয়কর রিটার্ন ২০২৬, ট্যাক্স স্ল্যাব, করমুক্ত আয়সীমা এবং কর্পোরেট ট্যাক্স রেট — সব কিছু এক জায়গায় জেনে নিন। 🟩 করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ (Tax-Free Income Limit Bangladesh)বিভিন্ন শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা (Tax Exemption Limit) ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছেঃকরদাতার শ্রেণি২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০২০৩০-৩১সাধারণ করদাতা৩,৭৫,০০০ টাকা৪,০০,০০০ টাকা৪,৫০,০০০ টাকানারী ও ৬৫+ বয়স্ক৪,২৫,০০০ টাকা৪,৫০,০০০ টাকা৫,০০,০০০ টাকাপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ৫,০০,০০০ টাকা৫,২৫,০০০ টাকা৫,৭৫,০০০ টাকাযুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা৫,২৫,০০০ টাকা৫,৫০,০০০ টাকা৬,০০,০০০ টাকা📌 প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা-মাতার ক্ষেত্রে সন্তান প্রতি অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা করমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য।🟦 ব্যক্তিগত আয়করের ট্যাক্স স্ল্যাব ২০২৬-২৭ (Individual Income Tax Slab Bangladesh)সাধারণ করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রযোজ্য আয়কর হার (Income Tax Rate Bangladesh):আয়ের ধাপকরের হারপ্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা০%পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা১০%পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা১৫%পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা২০%পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা২৫%অবশিষ্ট সকল আয়৩০%📌 ২০২৮-২৯ সাল থেকে স্ল্যাব আরও শিথিল হবে এবং সর্বোচ্চ হার ৩৫%-এ উন্নীত হবে।🟧 কর্পোরেট ট্যাক্স রেট ২০২৬-২৭ (Corporate Tax Rate Bangladesh)বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে কর্পোরেট কর হার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছেঃকোম্পানির ধরনকরের হারপাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি২২.৫% (ব্যাংকিং লেনদেনে ২০%)নন-লিস্টেড কোম্পানি২৭.৫% (ব্যাংকিং লেনদেনে ২৫%)ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান৩৭.৫% (লিস্টেড) / ৪০% (নন-লিস্টেড)মোবাইল অপারেটর৪৫% (শর্তসাপেক্ষে ৪০%)তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক৪৫% + ২.৫% সারচার্জবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও আইটি কলেজ১০%💡 বাজেট ২০২৬-২৭: আয়কর বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনসমূহঃফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত: আইটি-বহির্ভূত সকল ফ্রিল্যান্সিং আয় (Freelancer Tax Exemption Bangladesh), উদ্ভাবনী কাজ এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত করা হয়েছে।স্টার্টআপ ও SME ট্যাক্স সুবিধা (Startup Tax Bangladesh): তরুণ উদ্যোক্তাদের স্টার্টআপের টার্নওভার ট্যাক্স ০%। SME উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।ন্যূনতম কর বাতিল (Minimum Tax Abolished): উৎসে কাটা কর (TDS) এখন থেকে শুধু "অগ্রিম কর" হিসেবে গণ্য হবে। অতিরিক্ত কর কাটা হলে তা ফেরত (Tax Refund Bangladesh) বা সমন্বয় করা যাবে।TIN বাধ্যতামূলক: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং ১৫০ সিসি বা তার বেশি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে TIN বাধ্যতামূলক।২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই নতুন এবং পূর্বাভাসযোগ্য (Predictable) কর কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের করদাতাদের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এবারের বাজেটে যে নীতিগত ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে। কর ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণ যেমন সাধারণ মানুষের জন্য কর দেওয়া সহজ করবে, তেমনি দেশের সামগ্রিক রাজস্ব কাঠামোকেও শক্তিশালী করবে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কর আইনের এই পরিবর্তনগুলো জানা এবং সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।আইনি সতর্কীকরণ (Disclaimer):এই আর্টিকেলে উল্লেখিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয়কর ও কর্পোরেট ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যাদি মূলত ১১ জুন ২০২৬ ইং তারিখের বাজেট প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে বাজেট পাস হওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং পরবর্তীতে এনবিআর (NBR)-এর বিভিন্ন এসআরও (SRO), প্রজ্ঞাপন বা আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে এই নিয়ম বা কর হারে যেকোনো সময় পরিবর্তন বা পরিমার্জন আসতে পারে। তাই কর সংক্রান্ত যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সর্বশেষ গেজেট যাচাই করে নেওয়া অথবা একজন সার্টিফাইড ট্যাক্স আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।

আপডেট | ১১ জুন, ২০২৬
বিস্তারিত
অগ্রিম আয়কর ৪র্থ কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ ১৫ জুন ২০২৬

অগ্রিম আয়কর ৪র্থ কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ ১৫ জুন ২০২৬

আজ ২ জুন ২০২৬। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আপনি যদি অগ্রিম আয়কর (Advance Tax) প্রদানকারী একজন করদাতা হন, তাহলে আগামী ১৫ জুন ২০২৬ তারিখটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০২৫-২০২৬ আয়বর্ষের অগ্রিম আয়করের ৪র্থ ও সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধের শেষ তারিখ।সময়মতো পরিশোধ না করলে আপনাকে ‘খেলাপি করদাতা’ (Assessee-in-default) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বার্ষিক ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত সুদ গুনতে হতে পারে।অগ্রিম আয়কর (Advance Tax) কী এবং কেন দিতে হয়?অগ্রিম কর হলো চলতি বছরের আয়ের ওপর বছর শেষ হওয়ার আগেই কিস্তিতে কিস্তিতে সরকারকে প্রদত্ত আয়কর। এটি মূলত সরকারের রাজস্ব প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য আরোপ করা হয় এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে এটি বাধ্যতামূলক।কাদের অগ্রিম কর দিতে হবে?আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, সর্বশেষ আয়বর্ষে করদাতার মোট আয় যদি ৬ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে চলতি অর্থবছরে অগ্রিম কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।যেসব আয়ের ওপর অগ্রিম কর প্রযোজ্য নয়:আয়ের ধরনশর্তকৃষি খাতের আয়৮ লক্ষ টাকার মধ্যে হলেমূলধনি আয় (Capital Gains)সর্বদা প্রযোজ্য নয়এককালীন / অনিয়মিত আয়সর্বদা প্রযোজ্য নয়নতুন করদাতাদের জন্য বিশেষ বিধান:যদি আপনি প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করতে যাচ্ছেন এবং চলতি বছরে আপনার আয় ৬ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আপনাকেও ১৫ জুনের মধ্যে উপকর কমিশনারের নিকট আয়ের একটি প্রাক্কলন (Estimate) জমা দিয়ে অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে।অগ্রিম কর পরিশোধের কিস্তির সময়সূচিঃআয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অগ্রিম কর বছরে ৪টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় (প্রতিটি কিস্তি মোট করের ২৫%) ।কিস্তিপরিশোধের শেষ তারিখপরিমাণ১ম কিস্তি১৫ সেপ্টেম্বরমোট করের ২৫%২য় কিস্তি১৫ ডিসেম্বরমোট করের ২৫%৩য় কিস্তি১৫ মার্চমোট করের ২৫%৪র্থ কিস্তি১৫ জুন ← মোট করের ২৫%⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: নির্ধারিত তারিখ সরকারি ছুটির দিন হলে পরবর্তী কর্মদিবসে পরিশোধ করা যাবে।সময়মতো অগ্রিম কর না দিলে কী হবে?১. সরল সুদ আরোপ (Simple Interest): বছর শেষে কর নির্ধারণের পর যদি প্রমাণিত হয় যে আপনার পরিশোধিত অগ্রিম কর ও উৎসে কর্তিত করের সমষ্টি প্রকৃত নিরূপিত করের ৭৫%-এর কম, তাহলে ঘাটতি টাকার ওপর বার্ষিক ১০% হারে সরল সুদ গুনতে হবে।২. সুদের হার ৫০% বৃদ্ধি (রিটার্ন না দিলে): নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আয়কর রিটার্নও দাখিল না করলে উপরোক্ত সুদের হার আরও ৫০% বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ তখন সুদের হার দাঁড়াবে বার্ষিক ১৫%।৩. "খেলাপি করদাতা" হিসেবে চিহ্নিত হওয়া: নির্ধারিত সময়ে অগ্রিম কর না দিলে করদাতাকে আইনত Assessee-in-default বা খেলাপি করদাতা হিসেবে গণ্য করা হবে।কর-পরিকল্পনা একটি ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়া। এটি শুধু বছর শেষের কাজ নয় — সারা বছর সঠিক হিসাব রাখা এবং সময়মতো কর পরিশোধ করা একজন দায়িত্বশীল করদাতার পরিচয়। সুতরাং,১৫ জুন ২০২৬ আসার আগেই: আপনার মোট আনুমানিক আয়ের হিসাব করুন।পূর্ববর্তী কিস্তির রেকর্ড মিলিয়ে নিন।৪র্থ কিস্তির বাকি অংক পরিশোধ করুন।পরিশোধের প্রমাণ (চালান/ব্যাংক ডকুমেন্ট) সংরক্ষণ করুন। হিসাবে জটিলতা থাকলে অথবা নতুন করদাতা হলে একজন NBR-নিবন্ধিত অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ):প্রশ্নঃ আয় ঠিক ৬ লক্ষ টাকা হলে কি অগ্রিম কর দিতে হবে?উত্তরঃ না, আয় ৬ লক্ষ টাকার বেশি হলেই কেবল অগ্রিম কর প্রযোজ্য।প্রশ্ন: চাকরিজীবীদের কি আলাদা অগ্রিম কর দিতে হয়?উত্তর: চাকরিজীবীদের বেতন থেকে নিয়োগকর্তা প্রতি মাসে উৎসে কর (TDS) কেটে রাখেন। আপনার মোট আয়ের ওপর প্রদেয় কর যদি উৎসে কর্তিত করের (TDS) সমান হয়, তবে আলাদা অগ্রিম কর দিতে হবে না। তবে আপনার যদি ব্যাংক সুদ, বাড়ি ভাড়া বা অন্য কোনো আয় থাকে এবং উৎসে কর্তিত কর বাদেও প্রদেয় কর অবশিষ্ট থাকে, তা আপনাকে অগ্রিম কর হিসেবে জমা দিতে হবে।প্রশ্ন: অগ্রিম কর কোথায় জমা দিতে হয়?উত্তর: বর্তমানে সকল প্রকার কর এ-চালান (A-Challan) বা ই-পেমেন্ট এর মাধ্যমে জমা দিতে হয়। আপনি অনলাইনে NBR-এর এ-চালান পোর্টালের মাধ্যমে (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট ব্যবহার করে) ঘরে বসেই অগ্রিম আয়কর জমা দিতে পারেন। এছাড়াও অনলাইনে এ-চালান (A-Challan) ফর্ম পূরণ ও প্রিন্ট করে যেকোনো অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সরাসরিও জমা দেওয়া যায়।প্রশ্ন: প্রাক্কলিত আয়ের চেয়ে বাস্তব আয় কম হলে কী হবে?উত্তর: বছর শেষে রিটার্নে প্রকৃত কর নির্ধারণের পর অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অগ্রিম আয়কর | ২ জুন, ২০২৬
বিস্তারিত
অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে করদাতাদের কিছু জরুরি করণীয় (Year-End Tax Checklist)

অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে করদাতাদের কিছু জরুরি করণীয় (Year-End Tax Checklist)

৩০ জুন মাত্র দেড় মাস দূরে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে এই সময়টাই আপনার শেষ সুযোগ সঠিক কর-পরিকল্পনা করার এবং বাড়তি কর বাঁচানোর। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী কিছু কাজ এখনই সম্পন্ন করলে পরবর্তী করবর্ষে সম্পূর্ণ কর সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন।তবে তার আগে অর্থবছর ও করবর্ষ - এই দুইটি বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা দেওয়া উচিত।অর্থবছর ও করবর্ষ: দুটো আলাদা বিষয় অনেকেই অর্থবছর ও করবর্ষ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিষয়টি সহজ —অর্থবছর (Income Year): ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই সময়ে আপনি যা আয় করেন, যা খরচ করেন — সেটাই হিসাবের ভিত্তি। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২০২৬ শেষ হবে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে।করবর্ষ (Assessment Year): অর্থবছর শেষ হওয়ার পরের বছরটি। অর্থাৎ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে যা আয় করলেন, তার উপর ভিত্তি করে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করতে হবে — সাধারণত জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে।সহজ কথায়: আগে আয় করো, পরের বছর হিসাব দাও। তাই এখন যে বিনিয়োগ বা লেনদেন করবেন, সেটার প্রভাব পড়বে আগামী করবর্ষের রিটার্নে।চলুন একে একে দেখে নেওয়া যাক অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে করদাতাদের করনীয় কিছু বিষয়াবলীঃকর রেয়াত পেতে বিনিয়োগ সম্পন্নকরণ (Tax Rebate Planning): আসন্ন করবর্ষে কর রেয়াত পেতে চাইলে ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। যেমনঃ - ডিপিএস-এ কিস্তি জমা (বার্ষিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত) - সঞ্চয়পত্র ক্রয় - জীবন বিমার প্রিমিয়াম প্রদান - শেয়ার বাজারে নতুন বিনিয়োগ, ইত্যাদি।৩০ জুনের পরে বিনিয়োগ করলে তা এই বছরের কর রেয়াতে গণ্য হবে না — পুরো সুবিধাটি হারিয়ে যাবে।অগ্রিম আয়করের শেষ কিস্তি পরিশোধ (Advance Tax Payment): পূর্ববর্তী আয়বর্ষে আয় ৬ লক্ষ টাকার বেশি হলে ১৫ জুন ২০২৬-এর মধ্যে অগ্রিম আয়করের চতুর্থ তথা শেষ কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে না দিলে পরবর্তীতে অতিরিক্ত সরল সুদ ও জরিমানা আরোপিত হবে — যা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব ছিল।ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন নিশ্চিতকরণ (Banking Channel Compliance): আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী কর্মচারীদের বেতন এবং প্রতিষ্ঠানের ভাড়া যেকোনো পরিমাণ হোক না কেন অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধ করতে হবে। অন্যান্য খরচের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের ৫০%-এর বেশি নগদে পরিশোধ করা যাবে না — করলে নগদে পরিশোধিত অঙ্কের ২৫% খরচ বাতিল হয়ে 'বিশেষ ব্যবসা আয়' হিসেবে গণ্য হবে এবং করের বোঝা বেড়ে যাবে। তাই জুন শেষ হওয়ার আগেই বড় পেমেন্টগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করুন।হিসাবের খাতা ও ভাউচার হালনাগাদকরণ (Year-end Book Closing): আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী খরচের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকলে আয়কর অডিটের সময় সেই খরচ বাতিল হয়ে যাবে। তাই অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নিচের বিষয়গুলো গুছিয়ে ফেলুন — - আয়-ব্যয়ের হিসাব (১ জুলাই ২০২৫ হতে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) - ব্যাংক স্টেটমেন্ট (১ জুলাই ২০২৫ হতে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) - চালান ও খরচের ভাউচার (১ জুলাই ২০২৫ হতে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত)উৎসে করের রিটার্ন (TDS Return) প্রস্তুতি: কোম্পানি ও ফার্মগুলোকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে TDS রিটার্ন জমা দিতে হয়। চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল, মে ও জুন) উৎসে করের রিটার্ন জমার শেষ তারিখ ২৫ জুলাই ২০২৬। এখন থেকেই অর্থ পরিশোধের বিপরীতে TDS চালানগুলো সংগ্রহ করে রাখুন।কর-পরিকল্পনা কোনো একদিনের কাজ নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়া। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে এবং সম্পূর্ণ কর সুবিধা নিশ্চিত করতে আজই আপনার হিসাবগুলো মিলিয়ে নিন। ব্যবসার কর-পরিকল্পনা নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই একজন অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন — সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই স্মার্ট করদাতার পরিচয়।

আয়কর আইন | ১৮ মে, ২০২৬
বিস্তারিত
অংশীদারি ফার্মের আয়কর অডিট ও অ্যাসেসমেন্ট: একটি বাস্তব Case Study

অংশীদারি ফার্মের আয়কর অডিট ও অ্যাসেসমেন্ট: একটি বাস্তব Case Study

আয়কর অডিটে পড়লে কী হয়? শুধু জরিমানা নয় — সঠিক কমপ্লায়েন্স না থাকলে কোটি টাকার খরচ বাতিল হতে পারে, 'খেলাপি করদাতা' হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একটি বাস্তব কেইস স্টাডি দেখে নেওয়া যাক।প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি (Context & Legal Basis): শুরুতেই উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই অডিট ও অ্যাসেসমেন্টটি ২০২১-২০২২ করবর্ষের। সেই সময়ে বাংলাদেশে 'ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪' (Income Tax Ordinance, 1984) প্রচলিত ছিল।পটভূমি (Background):করদাতা প্রতিষ্ঠানটি একটি অংশীদারি ফার্ম, যারা মূলত বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ (Supply of goods/Contractor) ব্যবসার সাথে জড়িত। আলোচ্য ২০২১-২০২২ করবর্ষের জন্য তারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করে। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নির্দেশনায় ফাইলটি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়।অংশীদারি ফার্মের আয়কর কমপ্লায়েন্স না থাকলে NBR অডিটে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে, এই কেইস স্টাডিটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ।১. ফাইলটি কেন অডিটে পড়ল বা অডিটের সূত্রপাত কীভাবে?TDS রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা: করদাতা ফার্ম আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী উৎসে কর কর্তনের (Withholding tax) কোনো বিবরণী বা রিটার্ন দাখিল করেনি।সন্দেহজনক হিসাব বিবরণী: করদাতা তাদের আয়কর রিটার্নের সাথে যে আয়-ব্যয় ও খরচের হিসাব দাখিল করেছিল, তার সাথে ব্যাংকিং লেনদেন ও উৎসে কর কর্তনের যথোপযুক্ত প্রমাণাদি সংযুক্ত ছিল না।২. করদাতার দিক থেকে কী কী ভুল বা ব্যর্থতা ছিল?আয়কর অডিটে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় TDS কর্তন ও ডকুমেন্টেশনের অভাবে। এই কেইসে করদাতার বেশ কিছু গুরুতর ভুল ছিল:শুনানিতে অসহযোগিতা: আয়কর কর্তৃপক্ষ থেকে বারবার শুনানির নোটিশ দেওয়া হলেও করদাতার পক্ষ থেকে কেউ হাজির হয়নি এবং সময়ের জন্য কোনো আবেদনও করেনি। ফলে নথিতে থাকা কাগজপত্রের ভিত্তিতে একতরফা রায় দেওয়া হয়।নগদ লেনদেন (Cash Transactions): আইন অনুযায়ী অফিস ভাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু করদাতা প্রায় ৪ লক্ষ টাকার অফিস ভাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে নগদে পরিশোধ করেছে।খরচের সপক্ষে প্রমাণের অভাব (Lack of Vouchers): করদাতা তাদের লাভ-ক্ষতির হিসাবে বিদ্যুৎ বিল (প্রায় ৭৫ হাজার), যাতায়াত (প্রায় ৫০ হাজার), বিবিধ খরচ (প্রায় ৫০ হাজার) এবং স্টেশনারিজ (প্রায় ৭৫ হাজার) দাবি করেছিল। কিন্তু এর সপক্ষে তারা কোনো বিলের কপি বা প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হয়।তথ্য গোপন ও ব্যাংক বিবরণী দাখিল না করা: করদাতা তাদের ব্যাংক সুদ খাতে প্রায় আড়াই লক্ষ (২.৫ লক্ষ) টাকার খরচ দাবি করে। কিন্তু যে ব্যাংকগুলোর বিপরীতে এই সুদ দাবি করা হয়, সেই ব্যাংক হিসাবের কোনো বিবরণী (Bank Statement) তারা দাখিল করেনি।বিক্রয় বা আয়ের অংক গোপন করা (Concealment of Sales): করদাতা তাদের হিসাবে সরবরাহ খাত থেকে প্রাপ্তি বা বিক্রয় দেখিয়েছিল ৪.২০ কোটি টাকা। কিন্তু যে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির কাছে তারা পণ্য সরবরাহ করেছিল, সেই কোম্পানির দেওয়া প্রত্যয়নপত্র যাচাই করে দেখা যায়, করদাতা আসলে প্রায় ৪.৬৫ কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ করেছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার বিক্রয় তারা রিটার্নে গোপন করেছিল।ব্যাংক জমার সাথে বিক্রয়ের অসামঞ্জস্যতা: করদাতার প্রদর্শিত বিক্রয় ছিল ৪.২০ কোটি টাকা, কিন্তু তাদের প্রদর্শিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর জমা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সেখানে মোট জমার পরিমাণ প্রায় ৪.৪৫ কোটি টাকা, যা বিক্রয়ের চেয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বেশি। এর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না থাকায় অ্যাসেসিং অফিসার প্রায় ১০ লক্ষ টাকাকে 'খুচরা বিক্রয়' হিসেবে প্রাক্কলন করে আয়ের সাথে যোগ করেন।উৎসে কর (TDS) কর্তনে ব্যর্থতা: ফার্মটি প্রায় ৩ কোটি টাকার পণ্য ক্রয় এবং পরিবহন ও মেরামত বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করলেও, বিল পরিশোধের সময় তারা নিয়ম অনুযায়ী কোনো উৎসে কর (TDS) কর্তন করেনি।৩. অ্যাসেসমেন্টের ফলাফল (Assessment Outcome): যেহেতু করদাতা খরচের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণাদি দাখিল করতে পারেনি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ভাড়া পরিশোধ করেনি এবং খরচের বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর (TDS) কর্তন করেনি, তাই অ্যাসেসিং অফিসার আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর বিধান অনুযায়ী এই দাবি করা খরচগুলোকে অগ্রাহ্য (Disallow) করেন। এই বাতিলকৃত খরচের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি টাকার অধিক। এই বিপুল অংকের খরচ বাতিল হওয়ার কারণে ফার্মটির নিরূপিত আয় বহুগুণ বেড়ে যায় এবং এর ওপর ভিত্তি করে একটি বড় অংকের কর দাবি করা হয়।নতুন আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এই অ্যাসেসমেন্টটি কেমন হতো?উপরোক্ত কেইস স্টাডিটি যদি বর্তমান আয়কর আইন, ২০২৩ এর অধীনে অডিট এবং অ্যাসেসমেন্ট করা হতো, তবে আইনি প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিম্নরূপ হতো:অডিট নির্বাচন ও একতরফা রায় (Best Judgement Assessment): বর্তমানে অডিট প্রক্রিয়াটি ধারা ১৮২ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ফার্মটি যদি অডিটের নোটিশ পেয়ে সহযোগিতা না করত এবং সংশোধিত রিটার্ন দাখিল না করত, তবে উপকর কমিশনার ধারা ১৮৪ এর অধীনে 'সর্বোত্তম বিচারিক কর নির্ধারণ' (Best judgement Assessment) এর মাধ্যমে একতরফাভাবে কর নির্ধারণ করতেন।ভাড়া নগদে পরিশোধ (Cash Transactions): আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ভাড়ার অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফার ছাড়া অন্য কোনোভাবে পরিশোধ করলে তা সরাসরি অননুমোদনযোগ্য (Disallowed) ব্যয় হিসেবে বাতিল হয়ে যেত।ভাউচার বা প্রমাণের অভাব: আইন অনুযায়ী, হিসাবের খাতা নির্ধারিত নিয়মে না রাখলে এবং খরচের (বিদ্যুৎ, যাতায়াত, স্টেশনারি ইত্যাদি) সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ বা ভাউচার না থাকলে তা অননুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে গণ্য হতো।TDS কর্তনে ব্যর্থতা ও 'খেলাপি করদাতা': নতুন আইনের সবচেয়ে কড়া বিধানগুলোর একটি হলো TDS। পণ্য সরবরাহ ও যাতায়াত বা স্টেশনারি খরচের বিপরীতে উৎসে কর কর্তন না করায় আইন অনুযায়ী প্রায় ৩ কোটি টাকার অধিক এই খরচগুলো সম্পূর্ণ বাতিল হতো। শুধু তাই নয়, ধারা অনুযায়ী ফার্মটিকে 'খেলাপি করদাতা' (Assessee-in-default) হিসেবে গণ্য করে, কর্তন না করা করের সমপরিমাণ অর্থ এবং তার ওপর মাসিক ২% হারে অতিরিক্ত জরিমানা আদায় করা হতো।বিশেষ ব্যবসা আয় (Special Business Income): আইনের অধীনে যেসব খরচ বাতিল করা হতো, তা ফার্মের 'বিশেষ ব্যবসা আয়' হিসেবে গণ্য হতো এবং এর বিপরীতে অন্য কোনো ক্ষতি সমন্বয় করা যেত না।আয় বা বিক্রয় গোপন করা (Concealment of Income): ৪৫ লক্ষ টাকার বিক্রয় গোপন এবং ব্যাংক জমার সাথে গরমিলের কারণে এটি 'কর ফাঁকি' হিসেবে বিবেচিত হতো। নতুন আইনের ধারা অনুযায়ী, আয় গোপনের জন্য ফাঁকি দেওয়া করের প্রেক্ষিতে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হতো।TDS রিটার্ন দাখিল না করা: একটি ফার্ম হিসেবে ধারা ১৭৭ অনুযায়ী উৎসে করের রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এটি দাখিল না করার কারণে আইন অনুযায়ী সর্বশেষ কর নির্ধারণের উপরন নির্দিষ্ট হারে এবং প্রতি মাসের বিলম্বের জন্য জরিমানা আরোপিত হতো।এই কেইস স্টাডিটি শুধু একটি ফার্মের গল্প নয় — এটি বাংলাদেশের হাজার হাজার অংশীদারি ফার্ম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বাস্তবতা।আয়কর আইন ২০২৩ পুরনো অধ্যাদেশের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর। TDS কর্তন না করা, ভাউচার না রাখা, বা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেন করা — এই ভুলগুলো এখন শুধু খরচ বাতিলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং "খেলাপি করদাতা" হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এবং কোটি টাকার জরিমানার ঝুঁকি তৈরি করে।আপনার ফার্মের আয়কর অডিট বা অ্যাসেসমেন্ট নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে, নোটিশ পাওয়ার আগেই একজন অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সবসময় সহজ।

আয়কর অডিট | ১২ মে, ২০২৬
বিস্তারিত
আয়কর অডিট কী? যদি আপনাকে NBR আয়কর অডিটের আওতায় আনা হয় তাহলে কী করবেন — একটি সম্পূর্ণ গাইড

আয়কর অডিট কী? যদি আপনাকে NBR আয়কর অডিটের আওতায় আনা হয় তাহলে কী করবেন — একটি সম্পূর্ণ গাইড

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড পদ্ধতিতে ২০২৩–২০২৪ করবর্ষের বেশ কিছু আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে । আপনার ফাইলটি যদি এই তালিকায় থাকে, তবে প্রথমেই বলব — ঘাবড়ানোর বা ভয়ের একেবারেই কিছু নেই।✓ মনে রাখুন: যেহেতু এটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া, তাই এখানে কারো কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ নেই। এটি শুধুই একটি রুটিন যাচাই প্রক্রিয়া।অনেক করদাতার মনেই প্রশ্ন জাগে — আয়কর অডিট আসলে কী? আজ আমি বিষয়টি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব — অডিট কী , কীভাবে হয় , এবং একজন আয়কর আইনজীবী আপনার স্বার্থ রক্ষায় কী ভূমিকা পালন করেন ।আয়কর অডিট আসলে কী?অডিট মানে কোনো শাস্তি বা জরিমানা নয়। এটি শুধুই একটি যাচাই প্রক্রিয়া। আয়কর রিটার্নে আপনি আপনার আয়, ব্যয় ও সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন, তা বাস্তব তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা — তা দেখাই হলো অডিট।সহজ কথায়: আপনি যে সংখ্যা জমা দিয়েছেন, আয়কর অফিস শুধু তার স্বপক্ষে প্রমাণ দেখতে চাইছে — এটুকুই।অডিট প্রক্রিয়া কীভাবে চলে?আইনের ভাষায় অডিটের বিস্তারিত বিধান থাকলেও, একজন করদাতার দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত চারটি সহজ ধাপে সম্পন্ন হয়:একজন আয়কর আইনজীবী অডিট প্রক্রিয়ায় কীভাবে সাহায্য করেন?অনেক করদাতা মনে করেন নিজে নিজেই অডিট সামলানো সম্ভব। সরল ক্ষেত্রে হয়তো সম্ভব। কিন্তু আয়কর আইন জটিল — এবং যা সহজ মনে হয়, তা আইনিভাবে দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে — বিশেষত যখন আয়কর অফিস আপনার রিটার্নকে আপনার উদ্দেশ্য থেকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে।এখানেই একজন নিবন্ধিত আয়কর আইনজীবীর ভূমিকা শুরু হয়।আইনি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করাঃআয়কর আইনের ধারা ৩২৭ অনুযায়ী, একজন করদাতা তার পক্ষে কথা বলার জন্য একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারেন। আপনার আয়কর আইনজীবীর প্রথম দায়িত্ব হলো আপনার হয়ে NBR-এর সাথে সমস্ত আইনি যোগাযোগ পরিচালনা করা এবং পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে আপনার আইনি অধিকার সুরক্ষিত রাখা।সঠিক কাগজপত্র গুছিয়ে উপস্থাপন করাঃNBR ঠিক কী কাগজপত্র চাইছে এবং আইনি মানদণ্ড পূরণ করে কীভাবে তা উপস্থাপন করতে হবে — এটি একটি বিশেষ দক্ষতার বিষয়। আপনার আয়কর আইনজীবী প্রযোজ্য আইনের আলোকে চাহিদা বিশ্লেষণ করেন এবং আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সম্পত্তির দলিল ও আর্থিক রেকর্ড সঠিকভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করেন।আইনি ব্যাখ্যা প্রদানঃঅডিটের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হলো — করদাতার সম্পূর্ণ বৈধ আয় থাকলেও তা রিটার্নের ভুল অংশে দেখানো হয়েছে। তখন আয়কর অফিস সেটিকে অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে গণ্য করতে পারে — যা একটি গুরুতর সমস্যা। একজন আয়কর আইনজীবী আইনের সঠিক ধারা উল্লেখ করে লিখিত আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারেন এবং প্রমাণ করতে পারেন যে আপনার আয় যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত।সংশোধিত রিটার্ন প্রস্তুত বা আপিল দায়ের করাঃঅডিট শেষে সংশোধিত রিটার্ন জমা দিতে বলা হলে, আপনার আয়কর আইনজীবী আরও জটিলতা এড়াতে সেটি নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করবেন। আর যদি আয়কর অফিস আপনার অবস্থান যথাযথভাবে বিবেচনা না করে অন্যায্য কর চাপিয়ে দেয়, তাহলে তিনি ট্রাইব্যুনালে বা উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করবেন এবং আপনার পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।একজন সৎ করদাতার অডিটকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনার আয়, ব্যয় এবং সম্পদ যদি রিটার্নে সঠিকভাবে প্রদর্শিত হয়, তাহলে অডিট শুধুই একটি আনুষ্ঠানিকতা — এটি কোনো হুমকি নয়, শুধুই একটি প্রক্রিয়া।এনবিআর এর অডিট লিস্টে আপনার রিটার্নটি আছে কিনা চেক করুন আমার ফ্রি অডিট চেকার টুলের মাধ্যমেঃ  https://mahmudulhasanbijoy.online/nbr-return-audit-checker/সবশেষে: আপনার আয়কর রিটার্ন অডিটে পড়লে দুশ্চিন্তা না করে শান্তভাবে আয়ের দলিলাদি গোছাতে শুরু করুন এবং আপনার আয়কর আইনজীবীর সাথে আলোচনা করুন। তিনি আপনাকে সঠিক আইনি পথটি ধাপে ধাপে দেখিয়ে দেবেন।

আপডেট | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
বিস্তারিত
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আয়কর

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আয়কর

ফ্রিল্যান্সিং বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান ও সম্মানিত পেশা হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার পেশাদার আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য দূর থেকে কাজ করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছেন — যা জাতীয় অর্থনীতিতে অর্থপূর্ণ অবদান রাখছে। তবুও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের কি আয়কর দিতে হবে?এর উত্তরটি বেশিরভাগ মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম — এবং অনেক বেশি সুবিধাজনক। এই নির্দেশিকায়, আমি ব্যাখ্যা করব বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আয়কর সম্পর্কে বর্তমান আইন ঠিক কী বলে, কী কী শর্ত প্রযোজ্য এবং আপনার কী কী নথি সংরক্ষণ করতে হবে।বড় খবর: ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইটি ফ্রিল্যান্সিং আয় ১০০% করমুক্তএখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি রয়েছে যা প্রত্যেক বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারের জানা উচিত: বর্তমান আইন অনুযায়ী আইটি ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত আয় আয়কর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আয়কর আইন ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী, আবাসিক বা অনাবাসিক বাংলাদেশী ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত আয় ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করমুক্ত।✓ মূল বিষয়: এই ছাড়ের ক্ষেত্রে আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। আপনি আয়কর ফ্রিল্যান্সিং থেকে ৫ লাখ টাকা বা ৫০ লাখ টাকা যা-ই আয় করুন না কেন, নিচের শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে সম্পূর্ণ অর্থই করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।এটি একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা যা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের অন্যান্য স্বনির্ভর পেশাজীবীদের তুলনায় অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে। তবে, এই ছাড়টি শর্তসাপেক্ষ।কর ছাড়ের জন্য যোগ্যতার শর্তাবলী:বাংলাদেশে ১০০% আইটি ফ্রিল্যান্সিং কর ছাড় দাবি করার জন্য, আপনাকে দুটি বাধ্যতামূলক আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে:১. আয়ের ১০০% অবশ্যই ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আসতে হবেআইটি ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পূর্ণ আয় অবশ্যই ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আসতে হবে। নগদে ফ্রিল্যান্স পেমেন্ট গ্রহণ করলে আপনি এই ছাড়ের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।২. বৈদেশিক আয় অবশ্যই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আসতে হবেযেহেতু বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আসে, তাই বিদ্যমান বৈদেশিক রেমিটেন্স আইন অনুযায়ী তা অবশ্যই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। অনানুষ্ঠানিক স্থানান্তর পদ্ধতি (হুন্ডি, ক্রিপ্টো, ইত্যাদি) আপনাকে এই ছাড়ের জন্য অযোগ্য করে তুলবে।যদি কোনো একটি শর্ত পূরণ না হয়, তবে আয়টি তার করমুক্ত অবস্থা হারাতে পারে এবং প্রযোজ্য স্ল্যাব হারে নিয়মিত আয়করের আওতায় চলে আসতে পারে।ফ্রিল্যান্সারদের কি এখনও ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে?এখানেই বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার বিভ্রান্ত হন। উত্তর হলো: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার আয় করমুক্ত হলেও আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যদি আপনার একটি টিআইএন (TIN) থাকে অথবা আপনি আয়কর আইন ২০২৩-এর অধীনে বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের কোনো বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হন, তাহলে আপনার কোনো কর বকেয়া থাকুক বা না থাকুক, আপনাকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।গুরুত্বপূর্ণ: রিটার্ন দাখিল করার সময়, আপনার ফ্রিল্যান্সিং আয়কে করযোগ্য আয়ের কলামে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। পরিবর্তে, এটি অবশ্যই রিটার্ন ফর্মের "করমুক্ত আয়" বা "কর ছাড়ের যোগ্য আয়" বিভাগে সঠিকভাবে দেখাতে হবে। এটিকে ভুলভাবে করযোগ্য আয় হিসাবে দেখালে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতে পারে।কর দাখিলের জন্য ফ্রিল্যান্সারদের কী কী নথিপত্র প্রয়োজন?বাংলাদেশে রিটার্ন দাখিল করার সময় ফ্রিল্যান্সার কর ছাড় সঠিকভাবে দাবি করার জন্য, আপনাকে নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রস্তুত করে সংযুক্ত করতে হবে:ব্যাংক স্টেটমেন্ট: এটি প্রমাণ করে যে আপনার সমস্ত ফ্রিল্যান্সিং আয় (১০০%) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছে, যা সংশোধিত কর আইনের অধীনে ছাড়ের জন্য প্রাথমিক শর্ত।ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট / এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট: আপনার ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত; এটি প্রমাণ করে যে বৈদেশিক আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এসেছে।আয় বিবরণী / উপার্জনের সারাংশ: উৎস এবং পরিমাণ অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিং আয়ের বিস্তারিত বিবরণ। যেহেতু এটি ব্যবসা/পেশা খাতের অধীনে পড়ে, তাই একটি সাধারণ আয়-ব্যয় বিবরণী প্রয়োজন হতে পারে।টিআইএন সার্টিফিকেট: সকল ফাইলারের জন্য আবশ্যক।প্ল্যাটফর্ম উপার্জনের রেকর্ড: আপওয়ার্ক, ফাইভার বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে বছরের মোট উপার্জন প্রদর্শনকারী স্ক্রিনশট বা পিডিএফ এক্সপোর্ট।বাংলাদেশে কর সংক্রান্ত বিষয়ে ফ্রিল্যান্সারদের সাধারণ ভুলসমূহ:রিটার্ন দাখিল না করা — করমুক্ত আয়ও রিপোর্ট করতে হবে; সম্পূর্ণভাবে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা হতে পারে।ভুল কলামে আয় দেখানো — করমুক্ত আয়কে করযোগ্য আয় হিসাবে দেখালে অপ্রয়োজনীয় কর দায় তৈরি হয়।অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ — এটি আপনাকে সম্পূর্ণভাবে করমুক্তির অযোগ্য করে তোলে।ব্যাংক স্টেটমেন্ট না রাখা — এগুলো ছাড়া আপনি ব্যাংক ট্রান্সফার শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে পারবেন না।রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ মিস করা — আপনাকে অবশ্যই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপনার রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আপনার কর অব্যাহতির মর্যাদা সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়ে যাবে।অব্যাহতিটি স্থায়ী মনে করা — বর্তমান অব্যাহতিটি ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে; এরপর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।⚠️ সতর্কবার্তা / বিশেষ দ্রষ্টব্য: আয়কর আইন ও এর বিভিন্ন ধারা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন বা সংশোধনযোগ্য। এই ব্লগে প্রদত্ত তথ্যগুলো বর্তমান আয়কর আইনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাই আয়কর সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট ও সঠিক তথ্য জানার জন্য সর্বদা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.nbr.gov.bd) অনুসরণ করুন অথবা একজন অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

কর আইন | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
বিস্তারিত

প্রশ্নোত্তর

সাধারণ জিজ্ঞাসা

২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য রিটার্ন জমার শেষ সময় কবে?

গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। যারা অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন (Time Petition) করে অনুমোদন পেয়েছেন, তারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা করতে পারবেন।

কিন্তু যারা আবেদন করেননি এবং রিটার্নও জমা দেননি, তাদের ফাইলটি এখন আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৭৪ ধারার (Section 174) অধীনে চলে গেছে। যার ফলে বিলম্ব সুদ, জরিমানার, কর রেয়াত না পাওয়া, ইত্যাদি পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার বিধান রয়েছে।

আমার কি আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক?
নতুন আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, আপনার করযোগ্য আয় না থাকলেও যদি আপনার টিআইএন (TIN) থাকে এবং আপনি ৪৩টি নির্দিষ্ট সেবার (যেমন: লোন গ্রহণ, ক্রেডিট কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি) কোনোটি গ্রহণ করেন, তবে রিটার্ন দাখিল করা এবং পিএসআর (PSR) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর যে কর কাটা হয়, সেটাই কি চূড়ান্ত কর?
হ্যাঁ, সাধারণত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর্তিত কর (TDS) ধারা ১৬৩ অনুযায়ী চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হয়। তবে আপনার মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে যদি প্রদেয় করের পরিমাণ বেশি হয়, তবে পার্থক্যটুকু পরিশোধ করতে হবে।
রিটার্ন দাখিলের জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন?
সাধারণত বেতন বা আয়ের সনদ, ব্যাংক বিবরণী, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র (যেমন ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র), এবং সম্পদের বিবরণী প্রয়োজন হয়। ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও ক্যাশ বই প্রয়োজন হতে পারে।
২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য রিটার্ন জমার শেষ সময় কবে?
সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার শেষ তারিখ থাকে। সে অনুযায়ী ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য রিটার্ন জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর, ২০২৬, যা শুরু হবে ১লা জুলাই ২০২৬ থেকে। জরিমানা ও সুদ এড়াতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া উত্তম।
TIN রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা বন্ধ করার উপায় কি?
যদি আপনার টিআইএন থাকে কিন্তু বর্তমানে কোনো করযোগ্য আয় না থাকে এবং ভবিষ্যতে আয় করার সম্ভাবনা না থাকে, তবে আপনি উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে উপ-কর কমিশনার বরাবর টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারেন। তবে এর জন্য পূর্ববর্তী সব বছরের রিটার্ন বা জিরো রিটার্ন ক্লিয়ার থাকতে হবে।

আইনি সেবা

আয়কর

ব্যক্তি ও কোম্পানি ক্লায়েন্টদের রিটার্ন প্রস্তুত ও অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত আইনি সেবা।

আয়কর অডিট নিষ্পত্তি

অডিটের জন্য নির্বাচিত ফাইলের অডিট কার্যক্রম মোকাবিলা।

কর আপিল নিষ্পত্তি

কর কমিশনার (আপিল) এবং ট্রাইব্যুনাল বিভাগে মামলা পরিচালনা, রেফারেন্স এবং শুনানি।

লিগ্যাল অপিনিয়ন

আয়কর আইন সংক্রান্ত নোটিশের সুনির্দিষ্ট আইনি মতামত প্রদান।

কোম্পানি ট্যাক্স

কর্পোরেট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, উৎসে করের (TDS) রিটার্ন দাখিল, ট্রেড লাইসেন্স এবং আইনি ফাইল প্রস্তুতকরণ।

সনদ ও নিবন্ধন সেবা

করদাতাদের জন্য TIN এবং উইথহোল্ডার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (WIN) গ্রহণ ও সংশোধন।

সাক্ষাৎ

যোগাযোগ

চেম্বার

১৪ কাকরাইল, রমনা, ঢাকা।

সাক্ষাতের সময়

রবিবার - বৃহস্পতিবার:

সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:০০

শুক্রবার ও শনিবার: বন্ধ

সাক্ষাতের নিয়ম

"চেম্বারে সাক্ষাতের জন্য অনুগ্রহ করে ফোনে সময় নির্ধারণ করে নিন। পরামর্শের জন্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সাথে আনা আবশ্যক।"

mhbijoy.tax@gmail.com
01951252375
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন

চেম্বারের ঠিকানা

মাহমুদুল হাসান বিজয়

চেম্বার

১৪ কাকরাইল, রমনা, ঢাকা।

গুগল ম্যাপে দেখুন

সাক্ষাতের সময়

রবিবার - বৃহস্পতিবার:

সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:০০

শুক্রবার ও শনিবার: বন্ধ

সরাসরি যোগাযোগ

01951252375
"চেম্বারে সাক্ষাতের জন্য অনুগ্রহ করে ফোনে সময় নির্ধারণ করে নিন। পরামর্শের জন্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সাথে আনা আবশ্যক।"