২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য  আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে।
করবর্ষ ২০২৫-২০২৬১ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে।

গতকাল (৩১ মার্চ ২০২৬) আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা শেষ হয়েছে। যারা অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন (Time Petition) করে অনুমোদন পেয়েছেন, তারা আপাতত শান্তিতে আছেন।


কিন্তু যারা আবেদন করেননি এবং রিটার্নও জমা দেননি, তাদের ফাইলটি এখন আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৭৪ ধারার (Section 174) অধীনে চলে গেছে।


অনেকেই ভাবেন, "দেরি হয়েছে তো কী! সামান্য কিছু লেট ফাইন বা সুদ দিয়ে রিটার্নটা জমা দিয়ে দেব। আমার তো ডিপিএস আর সঞ্চয়পত্র আছে, রিবেট নিয়ে ট্যাক্স জিরো করে ফেলব।"

আর এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা!


🚫 (The Real Trap of Section 174):

১৭৪ ধারায় রিটার্ন দাখিল করলে আপনাকে শুধু যে বিলম্ব সুদ (প্রতি মাসে ২%) এবং এককালীন জরিমানা দিতে হবে, তা কিন্তু নয়। এর চেয়েও বড় আর্থিক ক্ষতিটি হলো—আপনি আপনার 'বিনিয়োগ রেয়াত' বা Investment Rebate এর আইনি অধিকার হারাবেন!


আয়কর আইন অনুযায়ী, আপনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (বা অনুমোদিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে) রিটার্ন দাখিল না করেন, তবে আপনি ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-৩ অনুযায়ী কোনো কর রেয়াত দাবি করতে পারবেন না।


ধরুন,, মাত্র ৩ মাস দেরির কারণে আপনার পকেট থেকে ঠিক কত টাকা বাড়তি যাবে:


✅ সময়মতো (৩১ মার্চের মধ্যে) রিটার্ন দিলেঃ

➡️ মোট কর: ৫০,০০০ টাকা

➡️ কর রেয়াত (বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত): ৫,০০০ টাকা

➡️ চূড়ান্ত প্রদেয় কর: ৪৫,০০০ টাকা


❌ ৩ মাস দেরিতে (১৭৪ ধারায়) রিটার্ন দিলে:

দেরিতে রিটার্ন দেওয়ার কারণে আপনার ওই ৫,০০০ টাকার কর রেয়াতটি প্রথমেই বাতিল হয়ে যাবে। রেয়াত বাতিল হওয়ার পর -

➡️ প্রদেয় কর: ৫০,০০০ টাকা

➡️ ৩ মাসের বিলম্ব সুদ (মাসিক ২% হারে): ৫০,০০০ × ৩ মাস × ২% = ৩,০০০ টাকা

➡️ চূড়ান্ত প্রদেয় কর: ৫৩,০০০ টাকা (হিসাবের সুবিধার্থে ধরে নেওয়া হয়েছে আপনার আগে থেকে কোনো অগ্রিম কর বা উৎসে কর দেওয়া নেই)


ফলাফল কী দাঁড়ালো?

সময়মতো রিটার্ন দিলে যেখানে আপনার ট্যাক্স আসতো ৪৫,০০০ টাকা, সেখানে মাত্র ৩ মাস দেরির কারণে আপনাকে দিতে হচ্ছে ৫৩,০০০ টাকা!


অর্থাৎ স্রেফ অবহেলার কারণে আপনার নিট লোকসান হলো ৮,০০০ টাকা। আর উপকর কমিশনার চাইলে এর সাথে আলাদা জরিমানাও যোগ করতে পারেন।


সুতরাং, যেহেতু ডেডলাইন পার হয়ে গেছে, তাই এখন এনবিআর থেকে নোটিশ (Notice) আসার আগেই স্বপ্রণোদিত হয়ে (Voluntarily) ১৭৪ ধারায় রিটার্নটি দাখিল করে ফেলুন। এতে অন্তত মাসের পর মাস বাড়তে থাকা 'বিলম্ব সুদ' থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।


১৭৪ ধারায় জরিমানা, সুদ এবং রেয়াত বাতিলের সঠিক হিসাবটি বুঝতে আজই একজন অভিজ্ঞ ট্যাক্স প্রফেশনালের সাথে যোগাযোগ করুন। ড্যামেজ কন্ট্রোল করাটাই এখন সবচেয়ে বড় ট্যাক্স প্ল্যানিং!

শেয়ার করুন:

চেম্বারের ঠিকানা

মাহমুদুল হাসান বিজয়

চেম্বার

১৪ কাকরাইল, রমনা, ঢাকা।

গুগল ম্যাপে দেখুন

সাক্ষাতের সময়

রবিবার - বৃহস্পতিবার:

সকাল ১০:০০ - বিকাল ৫:০০

শুক্রবার ও শনিবার: বন্ধ

সরাসরি যোগাযোগ

01951252375
"চেম্বারে সাক্ষাতের জন্য অনুগ্রহ করে ফোনে সময় নির্ধারণ করে নিন। পরামর্শের জন্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সাথে আনা আবশ্যক।"